প্রাচীন স্থাপনা ও নিদর্শন

খাঁ’র মসজিদ ও দীঘি

উপজেলায় চুনতী ও আধুনগর ইউনিয়নে মোঘল আমলে খা’র মসজিদ নামে দুটি মসজিদ নির্মিত হয়। বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান এ স্থাপত্য কলার একনিষ্ঠ পোষক ছিলেন। এটি মুসলিম স্থাপত্য শৈলীর অন্যতম নিদর্শন। নবাব শায়েস্তা খা’র পুত্র বুজুর্গ উমেদ খাঁ ১৬৬৬ খ্রীষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বিজয় করেন। ঐ সময়ে আধু খাঁ দোহাজারী দূর্গের সেনাপতি ছিলেন। আধু খাঁ ও তার বংশধর চট্টগ্রামে ২২টি দিঘী ও মসজিদ স্থাপন করেন। আধুনগরে খান হাট ও খান মসজিদ, চুনতীর খা দিঘী ও মসজিদ এবং মছদিয়াতে দিঘী তার বংশধরদের হাতেকড়ি। এ মসজিদগুলো পুনঃসংস্কার হলেও পুরনো স্থাপত্য এখনো কীর্তির পরিচয় বহন করছে।

বড় ও ছোট মিয়াজি জামে মসজিদঃ

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা পৃথিবীর অর্ধাংশের শাসক হযরত ওমর ফারুক (রা:)’র বংশের ২৫তম অধঃস্তন পুরুষ চুনতীর ঐতিহ্যবাহী মিয়াজী বংশের প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত অলীয়ে কামেল সুফী সাধক খন্দকার নছরুল্লাহ মিয়াজি (রহঃ)। খ্রিষ্টীয় ১৬ শতকের শুরুতে তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী ইউনিয়নে আসেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন। বসবাসের সুবিধার জন্যে তিনি সেখানে একটি পল্লীর গোড়াপত্তন করে সেখানে তিনি মক্তব প্রতিষ্ঠা করে স্থানীয় ছেলেমেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষাদান করতেন। তাকে গ্রামবাসীরা ভক্তিশ্রদ্ধার সাথে গ্রহন করেন।

শাহ খন্দকার নছরুল্লাহ মিয়াজি (রহঃ) এর দুই পুত্র ছিলেন শাহ শরীফ ও শাহ আবু শরীফ। যাঁরা বড় ও ছোট মিয়াজি নামে প্রসিদ্ধ। যাঁদের অসংখ্য কেরমতের কথা এখনো লোক মুখে শোনা যায়। শাহ খন্দকার নছরুল্লাহ খন্দকার তার পুতরা নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে চুনতীর সবচেয়ে প্রাচীন এবং সর্বপ্রথম মসজিদ চুনতী বড় মিয়াজি ও ছোট মিয়াজি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান মিয়াজি পাড়া পাহাড়ের উপর মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বড় মিয়াজি ও ছোট মিয়াজি (রহঃ) মসজিদের নামে সাড়ে ৯কানি জমি ওয়াকফ করেন। মসজিদে পাশে চুনতি মিয়াজি বংশের গাজীয়ে বালাকোট চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ মাওলানা আবদুল হাকিম (রহঃ) এর ভিটা রয়েছে। বড় ও ছোট মিয়াজি মসজিদ, মসজিদ সংলগ্ন ভিটা, কবরস্থান ও মসজিদ সংলগ্ন পাহাড় মিলে ৪২ কানি জায়গা রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ ১। লোহাগাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই, লেখকঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ;
২। ইন্টারনেট।

About the author

lohagarabd

Leave a Comment