প্রাচীন স্থাপনা ও নিদর্শন

চুনতীর আউলিয়া মসজিদঃ

হযরত মাওলানা নজির আহমদ (রহ:) একজন আধ্যাত্মিক ভাবাপন্ন আলেম ও দানবীর ব্যক্তি ছিলে। যার পুত্র ছিলেন হযরত শাহ হাবিব আহমদ (রহ:)। তিনি একজন প্রখ্যাত অলীয়ে কামেল ও সুফী সাধক ছিলেন। তিনি চুনতী পীর সাহেব কেবলা নামে পরিচিত।

অলীকুল শিরোমণি হযরত মাওলানা নজির আহমদ (রহ:) চুনতী রোসাইঙ্গা ঘোনা পাহাড়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে মাওলানা পাঁচকড়ি মিয়াজি নামে এক ব্যক্তি এ মসজিদের সংস্কারের কাজ করে। যে ১১জন লোক আরব আমিরাত থেকে চুনতী গ্রামে এসেছিলে পাঁচকড়ি মিয়াজি তাদের একজন। হযরত মাওলানা নজির আহমদ (রহ:) তাঁহাকে চুনতী বনপুকুর স্থানে বাড়ি নির্মান করে দেন। তাঁর দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রী চুনতী বড় মাওলানা পরিবারের এবং দ্বিতীয় স্ত্রী চুনতীর ঐতিহ্যবাহী পরিবার মিয়াজি বংশের। তাঁহার দুই পুত্র পুতুন মিয়াজি এবং মুখলেছুর রহমান মিয়াজি। পুতুন মিয়াজির এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁরা হলেন-নুর আহমদ মিয়াজি ও ওদনা খাতুন। মুখলেছুর রহমান মিয়াজির চার ছেলে ও দুই মেয়ে। তারা হলেন-আব্দুল মজিদ মিয়াজি, আবদুল হাকিম মিয়াজি, আনল হাকিম মিয়াজি, আবদুর রশিদ মিয়াজি, হাকিমা খাতুন, সুফিয়া খাতুন। মাওলানা শাহ নজির আহমদ (রহ:) ইন্তেকালের পর উক্ত মাটির মসজিদে কেউ যাওয়ার সাহস পেত না। কারণ উক্ত মসজিদের কবরস্থানে শায়িত আছে বহু পীর-বুজুর্গ। পরবর্তীতে কাজেম আলী মাস্টার নামে এক লোক মসজিদটি ভেঙ্গে মসজিদ সংলগ্ন পাহাড়ের উত্তর পাশে নিচে মসজিদ পুন:নির্মান করেন। কিছুদিন পর তিনি স্বপ্নে দেখলেন “তুমি কে, এই মসজিদ ভেঙ্গে নিচে নির্মান করছ?” এমতাবস্থায় উক্ত মসজিদ পুনরায় পুরাতন স্থানে নিয়ে যেতে হল। দীর্ঘদিন পর চুনতী সাতগর বিটের ফরেস্টার সিলেট আধিবাসী মোহাম্মদ ইয়াহিয়া(কালো ফরেস্টার নামে পরিচিত) উক্ত মসজিদ পুনরায় সংস্কার করেন।

মসজিদের চারদিকে জঙ্গল ছিল। ফলে মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাজে মুসল্লিরা কম আসতেন। ধর্মভীরু এই কালো ফরেস্টারের সংস্কারকৃত মসজিদে ৩৬ বছ ইমামতি করেন মরহুম মাওলানা আহমদ কবির। এরপর তাঁর পুত্র মাওলানা মোজাফ্ফর ৪/৫ বছর জুমার নামাজ পড়িয়েছেন মসজিদটিতে। বর্তমানে এ মসজিদে মরহুম মাওলানা ইয়াহিয়ার পুত্র মাওলানা সাজেদুল কাদের জুমার নামাজ পড়ান। যেকোন উদ্দেশ্যে এ মসজিদে কেউ মানত করলে লাভবান হতো এমন নজির সমাজে অহরহ রয়েছে।

এ মসজিদে প্রত্যহ আছরের নামাজ আদায় করতেন চুনতীর আরেক অলীকুল শীরোমনি হযরত মাওলানা শাহ হাফেজ আহমদ (রহ:) শাহ সাহেব কেবলা চুনতী। মসজিদের কবরস্থানে শায়িত আছেন অলীকুল শিরোমণি হযরত শাহ মাওলানা জাফর সাদেক (রহ:), হযরত শাহ মাওলানা পাঁচকড়ি মিয়াজি (রহ:) ও মাওলানা আবদুল গণি (রহ:) সহ অনেক বুজুর্গানে দ্বীন ও ওলামায়ে কেরামগণ। উক্ত মসজিদের কবরস্থানে শায়িত সকল বুজুর্গানে দ্বীনের স্মরণে প্রতিবছর ইছালে সওয়াব ও দোয়া মাহফিল হয়।

বর্তমানে আউলিয়া মসজিদের নতুনভাবে সংস্কার হয়েছে। রাস্তাঘাট সংস্কার হয়েছে। সংস্কারে সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী ও সাতকানিয়া থানার সোনাকানিয়ার চেয়ারম্যান নুর আহমদসহ অনেকেই এগিয়ে আসছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বির বিক্রম, পিএসসি উক্ত মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কারে ভূমিকা পালন করছেন।

তথ্যসূত্রঃ ১। লোহাগাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই, লেখকঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

About the author

lohagarabd

Leave a Comment