প্রাচীন স্থাপনা ও নিদর্শন

অন্যান্য স্থাপনা ও নিদর্শন

মছদিয়া জ্ঞান বিকাশ বিহারঃ

প্রায় ৪০০ বছর আগে বিহারটি নির্মান করা হয় বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। উপজেলার এটি একটি অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন। এ বিহারের প্রথম সংস্কার হয় ১৮৩৩ খ্রীষ্টাব্দে। ২০০১ সালে এটির চূড়ান্ত রূপ পায়। আধুনগর মছদিয়া এলাকায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর এ মন্দিরটি অবস্থিত। বিহারের তিন পাশে তিনটি দিঘী রয়েছে। দিঘীগুলো হচ্ছে খা’র দিঘী, সেবার দিঘী ও ভরাদিঘী।

কংসদিঘীঃ

উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের নালার কুল নামক এলাকায় এ দিঘী অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে, আরাকান রাজা নরমিখলা শাসনামলে ‘কংস’ নামে এক মগ ধর্মাবলম্বী রাজার প্রতিনিধি এ দিঘী খনন করেন। বর্তমানে দিঘীর স্মৃতিসরূপ দিঘীর তিনদিকে পাড় রয়েছে। এর আয়তন প্রায় ৫ একর।

রাজার খিলঃ

আরাকান রাজা নরমিখলা এ খিল বা বিল তৈরী করেছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তার নামানুসারে রাজার খিল ববা বিল নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা ককরে হয়। এটি উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের সাতগড়িয়ার দক্ষিণ পাশের বিল। এর আয়তন প্রায় ২৫ একর।

ঠাকুর বিহার ও ঠাকুর পাহাড়ঃ

বুদ্ধ রক্ষিত মহাস্থবির ১৮৭৮ সালে স্বধর্ম রত্নাংকুর বুদ্ধ বিহারের গোড়াপত্তন করেন। কর্ণ ঠাকুর দুই দশককাল এ বিহারের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। উপজেলার পূর্ব কলাউজানের লক্ষণের খীলে ঠাকুর পাহাড়টি অবস্থিত। পাহাড়টি এলাকার প্রাচীন নিদর্শনের সাক্ষী বহন করে। বর্তমানে এটি লক্ষণের খিল মহাশান্তি ভাবনাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আরকান শাসনামল থেকে এটি একটি ধ্যান শিক্ষাকেন্দ্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি আবিষ্কার করেন বিপিন চন্দ্র বড়ুয়া প্রকাশ লেদু বড়ুয়া। এর আয়তন ৪ একর। বর্তমানে এখানে একটি জাদি মন্দির ও দু’টি ভাবনা কুঠির রয়েছে। এই ঠাকুর পাহাড়ে প্রাচীন আমলের ঠাকুর বিহারটি অবস্থিত বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

মপধেশ্বরী মন্দিরঃ

১৯০৪ সালে প্রয়াত ধীরেন্দ্র বিজয় নাথ(ধীরেন্দ্র নাথ বৈদ্য) বড়হাতিয়ার নাথপাড়ার ঐতিহাসিক মঘদিঘীর উত্তর পাড়ে মন্দিরটি স্থাপন করেন। এই মন্দিরের জমির আয়তন প্রায় ৯০ শতক। ঐতিহাসিক এই হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে আছে দু’শত বছরের পুরনো অশ্ববৃক্ষ ও বটবৃক্ষ।

মগকাটা পুকুরঃ

সোলতান জামাল উদ্দীন মোহাম্মদ শাহের(১৪১৮-১৪৩২ খ্রী:) শাসনামলে আমিরাবাদের হাজার বিঘা এলাকায় এই পুকুর খনন করেন বলে লোকমুখে শোনা যায়। মোঘল আমলে মত ও মোগল বাহিনীর সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন মগ নিহত হয়েছিল এখানে। পুকুটির আয়তন প্রায় ২ একর। অন্য এক কিংবদন্তীর মতে, এক মগের শাসনামলে মগেরা এই পুকুর খনন করেন। আর তাই এর নামকরন হয় মঘকাটা পুকুর।

সুখছড়ী কালী মন্দির ও রাস মহোৎসবঃ

আমিরাবাদের সুখছড়ী গ্রামে প্রায় ৬০ বছর আগে ১৯৫৫ সালের দিকে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বর্গীয় ক্ষেমেষ চন্দ্র দাশ, অনন্ত সওদাগর, জ্যোতিরিন্দ্র চক্রবর্তী, দ্বিজেন্দ্র লাল চৌধুরী প্রমুক হিন্দু ধর্মপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা এ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব “রাস মহোৎসব”। ১৯৫৭ সালে সুখছড়ী গ্রামে উৎসব চালু হয়। এটি তখন চৌধুরী বাড়ির নিজস্ব পূজা ছিল। স্বর্গীয় গিরিশচন্দ্র চৌধুরীর সহধর্মিনী স্বর্গীয় তুলশীবালা চৌধুরীর মানসী পূজারূপে পরিচালিত হত। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে স্বর্গীয় ব্রজেশ্বর চৌধুরীর একক প্রচেষ্টায় কালী বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কালের বিবর্তনে এ রাস মহোৎসব মহীরূপে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ ১। লোহাগাড়া ইতিহাস ও ঐতিহ্য বই, লেখকঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

About the author

lohagarabd

Leave a Comment