আলোকিত ব্যক্তিত্ব মূলপাতা

লোহাগাড়ার কৃতি সন্তান ঢাবি প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খানের জীবনী

Written by lohagarabd

সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
ড. নিয়াজ আহমেদ খান ১৯৬৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার চুনতি ইউনিয়নের ঐতিহ্যমন্ডিত একটি প্রাচীন শিক্ষিত ও মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবার ডিপুটি বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। এখনো শতভাগ শিক্ষার অগ্রগতি নিয়ে এ পরিবারের খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে। ডিপুটি বাড়ির কীর্তিমান মনিষী খান বাহাদুর নাসিরুদ্দীন। এই পরিবারের গর্বিত সন্তানেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য এর দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিহাস পন্ডিত ড. মঈনউদ্দিন আহমেদ খান, ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ভাষা সৈনিক ফরমান উল্লাহ খান, ভাষা সৈনিক লুৎফর রহমান খান এই ডেপুটি বাড়ির ইতিহাসকে আরো উজ্জ্বল করেছে। বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদ উদ্দীন খানও এই পরিবারের সন্তান।
ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পিতা মরহুম ড. শফিক আহমেদ খান। আর দাদা মরহুম কবির উদ্দিন খান(কীর্তিমান মনীষী খান বাহাদুর নাসিরুদ্দিনের দৌহিত্র)। বিখ্যাত সাহিত্যিক ও কবি সুফিয়া কামালের স্বামী লেখক ও অনুবাদক মরহুম কামাল উদ্দিন খান উনার ছোট দাদা।

শিক্ষা জীবনঃ
ড. নিয়াজ আহমেদ খান ১৯৮১ সালে কুমিল্লা বোর্ড কর্তৃক মাধ্যমিক পরীক্ষায় ১ম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তখনো চট্টগ্রাম কলেজ কুমিল্লা বোর্ডের অধিনে ছিল এবং উচ্চ মাধ্যমিকেও কুমিল্লা বোর্ডে ১ম স্থান অধিকার করেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে অনার্স এবং মাষ্টার্স সম্পন্ন করেন এবং উভয় পরীক্ষাতে ১ম শ্রেণিতে ১ম স্থান অধিকার করেন।
প্রফেসর খান যুক্তরাজ্যের ওয়েলস ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মাননাসহ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পাদন করেন।

কর্ম জীবনঃ
ড. নিয়াজ আহমেদ খান বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান। তিনি ব্রাক ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট এর একাডেমিক ফেলো এবং সেন্টার ফর রিসোর্সেস এন্ড ডেভেলপমেন্ট রিসোর্স এরও নির্বাহী পরিচালক। তাঁর কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা শিক্ষা গবেষণা ও প্রায়োগিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা এই দুটি ধারায় সমৃদ্ধ। তিনি পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ও খ্যাতিনামা পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার(আইইউসিএন) এর বাংলাদেশ দপ্তরের প্রধান (দেশীয় প্রতিনিধি) ছিলেন। তিনি এর পূর্বেও উন্নয়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন; যেমনঃ ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম কোওর্ডিনেটর (পার্বত্য চট্টগ্রাম), এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক এর বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, এবং পিকেএসএফ-এর অপারেশন ম্যানেজার।
শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির কুইন এলিজাবেথ হউজে “দক্ষিণ এশিয়ান ফেলো”, ওয়েলস ইউনিভার্সিটির “রিসার্চ ফেলো”, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, এবং থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির “এশিয়া রিসার্চ ফেলো”র দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ব ব্যাংক, জাতিসংঘ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক(এডিবি), আমেরিকান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, যুক্তরাজ্য সরকারের সোয়ানসা-বে রেসিয়াল ইক্যুয়িটি কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপদেষ্ঠা ও পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৬০টিরও বেশি গবেষণামূক প্রবন্ধের রচয়িতা। তিনি নিয়মিতভাবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন কমিটি এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে সরব ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়াও তিনি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক, গবেষণা নির্দেশক ও শিক্ষা উপদেষ্ঠা হিসেবে প্রধান জাতীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে(যেমনঃ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষন কেন্দ্র, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমী, ফরেন সার্ভিস একাডেমী, সিভিল সার্ভিস একাডেমী, বাংলাদেশ আর্মি আর্টিলারি সেন্টার এন্ড স্কুল এবং বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি একাডেমীতে) নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
ইদানীং সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তিনি ভূমিকা রাখছেন। তিনি লোহাগাড়ার অন্যতম সামাজিক সংগঠন “মিহির” এবং লোহাগাড়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিসম্পন্ন অনলাইন মাধ্যম “লোহাগাড়াবিডি.কম” এর সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

About the author

lohagarabd

Leave a Comment