আলোকিত ব্যক্তিত্ব

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি নওয়াজিশ খান

নওয়াজিশ খানের রোমান্সমূলক প্রেমকাহিনী হিসেবে গুলে বকাওলী যে তখন খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এসব দৃষ্টান্তে তা প্রমাণিত হয়। নওয়াজিস খানের ওলে বকাওলী কাব্যগুণে উত্তম।


কবি পরিচিতিঃ
নওয়াজিশ খান মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ১৭শ শতকের কবি। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ এয়ার খন্দকার। নওয়াজিশ খান চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার প্রপিতামহ ছিলিম খান (সেলিম খান) গৌড় থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে সীতাকুন্ড উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামে বসতি করেছিলেন। ছিলিমপুর গ্রামের নামকরণ হয়েছে তাঁর প্রপিতামহের নামে।

সাহিত্যকর্মঃ

• গুলে বকাওলী,

• গীতাবলী,

• বয়ানাত,

• জোরওয়ার সিংহ হাজারী কীর্তি

• প্রক্ষিপ্ত কবিতা

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কর্ম গুলে বকাওলী একটি সরস রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। এটি ভারতের শেখ ইজ্জতুল্লাহ রচিত তাজুল মুলক গুলে বকাওলীর অনুসরনে রচিত হয়েছে।


লেখক নওয়াজিশ খানের লেখা সাহিত্যকাব্য গুলে বকাওলী সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া থেকে নেওয়া লেখাটি…


গুলে বকাওলী  মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়কাব্যের একটি ধারা। সতেরো শতকের কবি  নওয়াজিস খান প্রথম গুলে বকাওলী  কাব্য রচনা করেন। রাজপুত্র তাজুলমুলকের সঙ্গে পরীকন্যা বকাওলীর প্রেম নিয়ে এর আখ্যান নির্মিত। কাহিনীতে দুঃসাহসিক অভিযাত্রাসহ নানা অলৌকিক ঘটনা আছে। মধ্য ভারত এ কাহিনীর উৎসভূমি। সেখানে ‘বকাওলী’ নামে এক প্রকার ফুল পাওয়া যায়।

১৬২৫ খ্রিস্টাব্দে উর্দুতে রচিত একখানি গুলে বকাওলী কাব্য স্প্রিংগারের ক্যাটালগে উল্লিখিত হয়েছে। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে শেখ ইজ্জতুল্লাহ তাজুলমুলক গুলে বকাওলী নামে একখানি গ্রন্থ ফারসি গদ্যে রচনা করেন। তিনি ছিলেন বাঙালি। নওয়াজিস খান কোনো কিতাব অনুসরণে তাঁর কাব্য রচনা করেন তা জানা যায় না।

নওয়াজিস খানের পরে অনেকেই পদ্যে ও গদ্যে গুলে বকাওলী রচনা করেছেন। পদ্যে  মুহম্মদ মুকিম(১৭৬০-৭০), মুহম্মদ আলী, মুন্সি এবাদত আলী (১৮৪০), উমাচরণ মিত্র (১৮৪৩), আব্দুস শুকুর এবং গদ্যে বিজয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৯০৪) গুলে বকাওলী রচনা করেছেন। কেদারনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ১৮৭৮ সালে একটি নাটক রচনা করেন। এবাদত আলীর কাব্য  দোভাষী পুথি জাতীয়।

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ-এর উদ্যোগে এ কাহিনী অবলম্বনে মুন্সি নেহালচাঁদ লাহোরি উর্দু গদ্যে মজহাবে ইশক (১৮০৩) এবং দয়াশঙ্কর নসিম পদ্যে মসনবি গুলজারে নসিম (১৮৩৫) রচনা করেন। রোমান্সমূলক প্রেমকাহিনী হিসেবে গুলে বকাওলী যে তখন খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এসব দৃষ্টান্তে তা প্রমাণিত হয়। নওয়াজিস খানের ওলে বকাওলী কাব্যগুণে উত্তম।


তথ্যসূত্রঃ

১। বাংলাপিডিয়া

২। উইকিপিডিয়া

About the author

lohagarabd

Leave a Comment