মূলপাতা

অবহেলিত পথশিশুঃ তামজীদ তাহসিন

image%e0%a6%97sপানির স্রোত যেমন নদীর বুকে ভেসে যায় তেমনি জীবনের স্রোতও পৃথিবীর বুকে ভেসে যায়। এ স্রোত থামানোর মত শক্তি মানুষের নেই। ইংরেজীতে একটি বাক্য আছে A man architact of his own fate. তবে আমাদের সমাজে কিছু কিছু মানুষ জন্মগত ভাবেই নিজের ভাগ্য নির্মান করতে অপারক। তারা হচ্ছেন পথশিশু। তারাও অন্যদের মত দশমাস দশদিন মাতৃগর্ভ থেকে এসে দুনিয়ার সুন্দর মুখ দেখতে পায়। কিন্তু তারা অন্যদের মত জন্মের পর সেরিল্যাক, পুষ্টিকর দুধ, নানান ধরনের ভিটামিন, চিকিৎসা সুবিধা পায়নি। তাদের অনেকেই মা-বাবার পরিচয় তারা জানে না। তারা মানুষের কাছে হাত পাতে শুধু বেঁচে থাকার জন্য। আর আমরা বিচিত্র রঙের মানুষ তাদের দিকে তাকানোর সময়টুকু আমাদের নেই। এই কুয়াশাচ্ছন্ন শীতে কত হত-দরিদ্র শিশুরা কাঁপছে। আর আমরা তখন কত দামী দামী শীতের কাপড় পড়ে আরাম করি। আমাদের চোখ যেন অন্ধ হয়ে গেছে। অথচ আমরাই আবার বহির্বিশ্বের অনাহারে থাকা, শীতে কাঁপতে কাঁপতে মারা যাওয়া মানুষদের কথা বলি। আমাদের পাশে কত হত-দরিদ্র রয়ে গেল সেদিকে আমাদের নজর নেই। আমরা মাস শেষে বেতন পেয়ে বন্ধুদের ট্রিট দিতে আমাদের কোন অভাব নেই। আমরা নতুন নতুন জামা গাঁয়ে দিতে আমাদের পয়সার কমতি নেই। বন্ধুদের জন্মদিনে গিফট দিতে পকেটে টাকার একটুও কমতি নেই। আর যখন পথ শিশুরা হাত পাতে তখন দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আমরা কিছু জানিনা। শপিংমল থেকে কেনাকাটা করে যখন বের হই দেখি ছেড়া কাপড় পরিধান করে একটি শিশু বস্তা কাঁদে নিয়ে রাস্তার ধারে ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট জিনিস কুড়াচ্ছে। আর আমাদের হাতে তখন রঙিন শপিংব্যাগ ভর্তি কাপড়। আমাদের সন্তানেরা সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেলা টাকা দিতে আমাদের বিবেককে একটুও নাড়া দেয় না। আমরা কেন এরকম শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি নিজেকে এমন প্রশ্ন একবারও করি না। কিন্তু পথশিশুদের জন্য খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার অধিকারটুকু দিতে আমাদের বিবেক সঙ্কোচ করে। আমাদের মানবতার নজির মেলে এখানে! বাহ্.. কেন? তাদের জন্মগ্রহন করাটা কি অপরাধ? মানুষের ৫টি মৌলিক চাহিদা শিক্ষা, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং খাদ্য। এ পাঁচটি চাহিদার কোনটি তাদের জন্য পূরণ হচ্ছে? তারা কি উপলব্ধি করে না? তারা কি আমাদের সমাজের অন্তর্ভূক্ত না? তারা বেড়ে উঠে ডাস্টবিনের খাবার খেয়ে। সারাদিন-রাত খোলা আকাশের নিচে তাদের বসবাস। নিজের নামটুকু তারা লিখতে জানে না। আর আমরা তাদের বলি টুকাই। আামদের নামের একটু ব্যঙ্গ কেউ করলে আমাদের যন্ত্রণা শুরু হয়। আমরা প্রতিবাদ করি। কিন্তু তারা? ১৩-১৪ বছরের পথশিশু রাস্তার ধারে পরে থাকা সিগারেটের অংশটুকু দিয়ে তাদের ধুমপানের শুরু! তাদের বেঁচে থাকা তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তারা কাজ করার প্রেরণা কখনো পায় নি। তাদের কানে শিক্ষার একটি বিন্দুও পৌছেনি। সিগারেট থেকে আস্তে আস্তে তারা নানান নেশাদ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। সেখান থেকে তাদের জীবনের অন্য অধ্যায় শুরু হয়। তারা চুরি, ছিনতাই করা শুরু করে। মাদকদ্রব্য পাচার কাজে লিপ্ত হয়। অবশেষে তাদের জেল হয়। সমাজে তারা চুর, ডাকাত নামে আখ্যা পায়। কিন্তু মাদকদ্রব্যের যারা আসল বিক্রেতা তারা? তারা থাকে আইনের ধরা ছোয়ার বাইরে। অথচ তারা সমাজে প্রকাশ্যে দিনাতিপাত করে যাচ্ছে। কেন এই পথশিশুরা এত অবহেলিত? কি পেল তারা আমাদের সমাজ থেকে? আমাদের শিক্ষিত মহল তো আছেন মানববন্ধন নিয়ে ব্যস্ত। মানববন্ধনের সেলফি, ফটো ঠায় পায় অনলাইনে। পরের দিন পত্রিকায় আসে অমুকের অমুক মানববন্ধন করেছে। এদেশের কত ভাগ মানুষ সমাজের এ অপরাধের দৃশ্য গোড়া থেকে নির্মূলের কথা চিন্তা করে? ভার্চুয়াল জগতে আমাদের সমাজে শিক্ষিত মানুষের হার দিন দিন বেড়ে চলছে। কিন্তু আমাদের নৈতিকতার অবক্ষয়ের ফলে এক শ্রেণীর মানুষকে অবশেষে ফলপ্রসূ হিসেবে খেসারত দিতে হবে কেন? এ ব্যাধিতে তারা কেন আক্রান্ত হবে? এর দায়ভার কারা নিবে। কেউনা। কারণ আমরা এখন বিচিত্র জগতের মানুষ।

About the author

lohagarabd

5 Comments

  • আপনার লেখাটি দেখে আসলে প্রতিদিন রাস্তার ধারে দেখা যে চিত্রটি সেটি ভেসে উঠে। খুব ভাল লাগল। আপনার এবং লোহাগাড়াবিডি.কম এর জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।

  • পথশিশুদের নিয়ে ভাবার মত মন মানসিকতা, ভাব উদয় আমাদের মাঝে এখনো হয়নি।

    • আমাদের মাঝে ভাব উদয় হওয়ার জন্য, শুভ বুদ্ধি উদয়ের জন্য লোহাগাড়াবিডি.কম এর শুভযাত্রা। এ যাত্রালগ্নে আপনারা পাশে থাকলো আমরা পারব। ইনশাআল্লাহ।

  • আমাদের একুনি সজাগ হওয়া দরকার, না হরে আল্লাহর কাছে আপনাকে আমাকে আমাদের কে ঐ দিন আসামি হতে হবে।ওদেন চাহিদা বেশি কিছু না চাইলে সবাই, আসুন সবাই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই যাতে সমাজের অবহেরিত মানুষের পাষে একটু দাড়াঁতে পারি,সবার প্রতি শূভ কামানা

Leave a Comment