আমরা কারা

আমরা কারা?

সালটি ছিল ২০১১। আমরা দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করি। পাশ করার পর পড়াশোনা কিংবা কর্ম ব্যস্ততার মধ্যে কে কোথায় পড়াশোনা, চাকুরী করতেছি জানতামই না। কিন্তু হঠাৎ কেন যেন শৈশব স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তাই একে অপরকে খুজাখুজি করি। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্বের বন্ধন আবার ফিরে আসে। কেউ পড়াশোনা করছি ডাক্তারি বিষয়ে, কেউবা ইংরেজি, আর কেউ রাষ্ট্রবিজ্ঞান, কেউ কেউ আছি আইন বিষয়ে, অনেকেই আছি চাকুরীজীবী। চাকুরী করতেছি কেউ সাংবাদিকতার মহান পেশায়, আর কেউবা দেশ রক্ষার মহান পেশায় নিয়োজিত। বন্ধুত্বের বন্ধন ফিরে পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের মাঝে লুকিয়ে থাকা সমাজসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হত। তার মধ্যে একটি ছিল সামাজিক চিন্তাধারা। সুন্দর, সমৃদ্ধময় মাদকমুক্ত একটি সমাজ গড়ার দৃড় অঙ্গীকার আমাদের মাঝে চলে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের এক বন্ধু ২০১৩ সালে লোহাগাড়ার বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম অর্থাৎ ইন্টার্নেটে তুলে ধরার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লোহাগাড়ার নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট তৈরী করার চিন্তাভাবনা তার মাথায় আসে। আমরা ক’জন বন্ধুরা তাকে এ কাজে উৎসাহিত করি। যার ফলে সে কাজটিকে আরো আন্তরিকতার সাথে নেয়। তখন থেকে সে ওয়েবসাইটটি তৈরীর কাজ শুরু করেন। ওয়েবসাইটটি হবে সম্পূর্ণ সামাজিক একটি সাইট। যেখানে থাকবে আমাদের লোহাগাড়ার বিভিন্ন তথ্য, থাকবে সামাজিক নিয়মনীতি, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ঐতিহ্য সম্পর্কে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে আমরা লোহাগাড়ায় প্রথম অনলাইনে ব্লাড ডোনেশনের কাজও এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করতে যাচ্ছি। আমাদের সমাজে দেখা যায় কত মানুষ রক্তের অভাবে মারা যান। আমাদের লোহাগাড়ায় শত শত সামাজিক সংগঠন রয়েছে। কিন্তু কোন সমাজকর্মী এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আধৌ ভাবে না। যাক অবশেষে আমাদের “মিহির”র প্রত্যেকটা সদস্যবৃন্দের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হল। যে বা যারা প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে আমাদের সাথে ছিলেন, আছেন তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্যি বলতে কি আপনাদের সহযোগিতা না পেলে হয়ত আজকের এ অবস্থানে আমরা পৌছাতে পারতাম না। সবার জন্য শুভকামনা রইল।

About the author

lohagarabd

Leave a Comment